• শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
শৈলকূপায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩ গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মিন্টু ঢালীর জামায়াতে যোগদান শৈলকূপার কাতলা গাড়ি বাজারে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ক্ষতি প্রায় ৬ লাখ টাকা শৈলকুপায় কুমার নদে ট্রাক পড়ে ড্রাইভার ও হেলপারের মর্মান্তিক মৃত্যু শৈলকুপা দোকান মালিক সমিতির আহবায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত শৈলকুপা বাজার দোকান মালিক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি–২০২৬ গঠন শৈলকুপায় জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক এ এস এম মতিউর রহমানের মনোনয়ন ফরম জমা শৈলকুপায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শৈলকুপা থানায় নবাগত অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করলেন মোঃ হুমায়ুন কবির মোল্লা
বিজ্ঞাপন
আপনার প্রতিষ্ঠানের যেকোন বিজ্ঞাপন দিতে কল করুন : মোবাইল : ০১৯২১-৭৭৪৯১১।

সূরা হাদীদ: নামকরণ, প্রেক্ষাপট, এবং ১০-১৪ আয়াতের দারস

Reporter Name / ২২০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সূরা হাদীদ: নামকরণ, প্রেক্ষাপট, এবং ১০১৪ আয়াতের দারস (তাফহীমুল কুরআন অনুসারে)

সূরা হাদীদ: নামকরণ প্রেক্ষাপট

সূরা হাদীদ (الحديد) অর্থ “লোহা”। এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে এর ২৫ নং আয়াতে “লোহা” শব্দের উল্লেখের কারণে, যেখানে আল্লাহ তায়ালা লোহার গুরুত্ব ও কার্যকারিতা বর্ণনা করেছেন। এটি মাদানী সূরা, যা হিজরতের পর মদীনায় নাযিল হয়েছে।

এই সূরার মূল বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর পথে ব্যয় করার গুরুত্ব, ঈমানের দাবি, মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য এবং আখিরাতের জবাবদিহিতা। মদীনার জীবনে মুসলিমদেরকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এমতাবস্থায়, আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদেরকে জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ (আল্লাহর পথে সংগ্রাম) এবং ইনফাক ফী সাবীলিল্লাহ (আল্লাহর পথে ব্যয়) এর জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন। এই সূরায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে, যারা ইসলামের প্রাথমিক ও কঠিন সময়ে আল্লাহর পথে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে, তারা পরবর্তীতে যোগদানকারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

১০১৪ আয়াতের দারস

আয়াত ১০:
مَن ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ وَلَهُ أَجْرٌ كَرِيمٌ

সরল বঙ্গানুবাদ:
কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করবে? অতঃপর আল্লাহ তাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তার জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।

তাফহীমুল কুরআন অনুসারে দারস:
এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর পথে ব্যয় করাকে “আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর মাধ্যমে বান্দাকে এই আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে যে, আল্লাহর পথে ব্যয় করা কোনো লোকসান নয়, বরং এটি এমন একটি বিনিয়োগ যা আল্লাহ বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন এবং এর বিনিময়ে মহা পুরস্কার দান করবেন। “উত্তম ঋণ” বলতে এমন দানকে বোঝানো হয়েছে যা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, হালাল উপার্জন থেকে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং কোনো রকম খোঁটা বা প্রতিদানের আশা ছাড়া করা হয়। এই আয়াত মুসলিমদেরকে আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করার জন্য চরমভাবে উৎসাহিত করে।

আয়াত ১১:
يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَىٰ نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِم بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

সরল বঙ্গানুবাদ:
যেদিন তুমি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে দেখবে তাদের নূর তাদের সামনে ও তাদের ডান পাশে ছুটছে। (তাদেরকে বলা হবে) আজ তোমাদের সুসংবাদ হলো জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত, তাতে তোমরা চিরকাল থাকবে। এটাই হলো মহাসাফল্য।

তাফহীমুল কুরআন অনুসারে দারস:
এই আয়াতে কিয়ামতের দিনের একটি মনোহর দৃশ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সেদিন মুমিনদের আমলের নূর তাদের সামনে ও ডান পাশে পথ দেখাবে। এটি তাদের দুনিয়ার ঈমান ও নেক আমলের প্রতিচ্ছবি। এই নূর তাদের জান্নাতের পথ আলোকিত করবে এবং তাদের জন্য সুখবর বয়ে আনবে। এর বিপরীতে, অবিশ্বাসীরা সেদিন অন্ধকারে থাকবে। “নূর তাদের সামনে ও ডান পাশে ছুটছে” – এটি বোঝায় যে তাদের আমলই তাদের পথপ্রদর্শক হবে। এই আয়াত মুমিনদেরকে আখিরাতের এই সাফল্যের জন্য দুনিয়াতে প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করে।

আয়াত ১২:
يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ

সরল বঙ্গানুবাদ:
যেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা মুমিনদেরকে বলবে, ‘আমাদের জন্য অপেক্ষা করো, আমরা তোমাদের নূর থেকে কিছু গ্রহণ করি।’ বলা হবে, ‘তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও এবং নূরের সন্ধান করো।’ অতঃপর তাদের মাঝে একটি প্রাচীর স্থাপন করা হবে, যার একটি দরজা থাকবে। তার ভেতরের অংশে থাকবে রহমত এবং বাইরের অংশে থাকবে আযাব।

তাফহীমুল কুরআন অনুসারে দারস:
এই আয়াত মুনাফিকদের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে। সেদিন মুনাফিকরা মুমিনদের নূর দেখে তাদের কাছে আলো চাইবে, কিন্তু তাদের চাওয়া প্রত্যাখ্যান করা হবে। তাদের বলা হবে, “তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও এবং নূরের সন্ধান করো” – অর্থাৎ, দুনিয়াতে গিয়ে ঈমান ও আমল অর্জন করো, যা এখন আর সম্ভব নয়। তাদের ও মুমিনদের মাঝে একটি প্রাচীর স্থাপন করা হবে, যার একপাশে থাকবে আল্লাহর রহমত এবং অন্যপাশে থাকবে শাস্তি। এটি দুনিয়ার জীবনে ঈমান ও কুফরের যে ব্যবধান ছিল, আখিরাতে তার চূড়ান্ত প্রকাশ। এই আয়াত মুনাফেকীর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে এবং মুসলিমদেরকে তাদের ঈমানে দৃঢ়তা অবলম্বনের আহ্বান জানায়।

আয়াত ১৩:
يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ قَالُوا بَلَىٰ وَلَٰكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّىٰ جَاءَ أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ

সরল বঙ্গানুবাদ:
তারা (মুনাফিকরা) মুমিনদেরকে ডেকে বলবে, ‘আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না?’ তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ফেতনায় ফেলেছিলে, তোমরা প্রতীক্ষা করেছিলে, সন্দেহ পোষণ করেছিলে এবং মিথ্যা আশা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ এসে গেল। আর প্রতারক তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছিল।’

তাফহীমুল কুরআন অনুসারে দারস:
এই আয়াতে মুনাফিকদের সাথে মুমিনদের কথোপকথন তুলে ধরা হয়েছে। মুনাফিকরা দাবী করবে যে তারা দুনিয়াতে মুমিনদের সাথে ছিল, অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে তারা মুসলিম সমাজেই বাস করত। মুমিনরা তাদের দাবী স্বীকার করবে, কিন্তু স্পষ্ট করে দেবে যে মুনাফিকরা নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিল। “তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ফেতনায় ফেলেছিলে” – অর্থাৎ, তারা ঈমান ও কুফরের মাঝে দোদুল্যমান ছিল এবং কুফরের প্রতিই ঝুঁকে পড়েছিল। “প্রতীক্ষা করেছিলে” – অর্থাৎ, ইসলামের বিরুদ্ধে বিপর্যয়ের অপেক্ষায় ছিল। “সন্দেহ পোষণ করেছিলে” – আল্লাহর ওয়াদা ও রাসূলের দাওয়াত সম্পর্কে। “মিথ্যা আশা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল” – অর্থাৎ, দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও দীর্ঘ জীবনের আশা তাদের আখিরাত থেকে গাফেল করে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত শয়তান তাদের আল্লাহর ব্যাপারে ধোঁকা দিয়েছিল। এই আয়াত প্রমাণ করে যে বাহ্যিক পরিচিতি নয়, বরং অন্তরের ঈমান ও আমলই আখিরাতে মুক্তি দান করবে।

আয়াত ১৪:
فَالْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنكُمْ فِدْيَةٌ وَلَا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مَأْوَاكُمُ النَّارُ هِيَ مَوْلَاكُمْ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

সরল বঙ্গানুবাদ:
অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং যারা কুফরী করেছিল তাদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম; সেটাই তোমাদের উপযুক্ত স্থান। আর তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!

তাফহীমুল কুরআন অনুসারে দারস:
এই আয়াতটি মুনাফিক ও কাফির উভয়ের জন্য আখিরাতের চূড়ান্ত ও নির্মম পরিণতি ঘোষণা করে। সেদিন কোনো প্রকার মুক্তিপণ বা বিনিময় গ্রহণ করা হবে না। দুনিয়াতে সম্পদ বা ক্ষমতার জোরে যা কিছু করা সম্ভব ছিল, আখিরাতে তার কোনো মূল্য থাকবে না। তাদের একমাত্র ঠিকানা হবে জাহান্নাম, যা তাদের জন্য “উপযুক্ত স্থান” বা “অভিভাবক” (মওলাকুম) হবে – অর্থাৎ, তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। “আর তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!” – এই বাক্যাংশটি জাহান্নামের ভয়াবহতা ও নিকৃষ্টতাকে তুলে ধরে। এই আয়াতটি দুনিয়ার জীবনে ঈমান ও আমলের গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করে, কারণ আখিরাতে আর কোনো সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।

সৌজন্যে মিডিয়া বিভাগ

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/