
প্রকাশ্যে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা: অপহরণে ব্যর্থ হয়ে ছিনতাই
মোঃ শহিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রকাশ্যে অপহরণ চেষ্টা ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন জাতীয় দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন ও ঢাকা এক্সপ্রেস-এর উপজেলা প্রতিনিধি এবং সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মঠবাড়িয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা হোসাইন (৩২)। এ ঘটনায় পৌর যুবদলের সদস্য পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেলওয়ারের পুত্র বেল্লাল (৪২) এবং পূর্ব রাজপাড়া গ্রামের মৃত লতিফ দফাদারের কন্যা রানী বেগমের পুত্র চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইমন (৩৫) সহ অন্তত ৮–১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে মর্তুজা হোসাইন স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে তালতলা বাজারে আসেন। মোটরসাইকেলে পেট্রোল ভরার সময় হঠাৎ বেল্লাল, ইমন, হীরা খান (৪৮) সহ একদল সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে এসে তাকে জোরপূর্বক টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা জনসম্মুখে মর্তুজার পকেট থেকে মোবাইল ফোন ও ২১ হাজার টাকার অধিক অর্থসহ মানিব্যাগ ছিনতাই করে।
চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বুধবার একই চক্র মর্তুজা হোসাইনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক অভিযোগ তুলে চাঁদা দাবি করে। ব্যর্থ হলে তারা হোটেলের কর্মচারী আমেনা বেগম (৫২) ও অংশীদার সুমি বেগম (৩৪)-এর ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার ভিডিওচিত্র গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চক্রটি নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে মর্তুজা হোসাইন ও সুমি বেগমের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাতে থাকে। এ বিষয়ে সুমি বেগম বাদী হয়ে গত ৬ এপ্রিল মঠবাড়িয়া থানায় ১৪ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজি মামলা এবং মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জিডি দায়ের করেন।
মর্তুজা হোসাইন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই মঠবাড়িয়ায় এই সন্ত্রাসী চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা থাকলেও তারা অজ্ঞাত কারণে অধরাই থেকে যাচ্ছে। আমাকে পরিকল্পিতভাবে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এলাকাবাসীর প্রতিরোধ না থাকলে হয়তো আজ বেঁচে ফিরতে পারতাম না। তবে আমার মোবাইল ফোন ও ২১ হাজার টাকার বেশি অর্থসহ মানিব্যাগ ছিনতাই করেছে তারা। ব্যর্থ হয়ে এখন তারা সামাজিকভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে।”
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,“ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
মঠবাড়িয়ায় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর ওপর এভাবে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
https://slotbet.online/